নাইট্রো পিডিএফ

বেশ কিছুদিন হলো আমি একটা অসাধারণ পিডিএফ রিডার+রাইটার ব্যবহার করছি। আমি এর পারফরমেন্সে এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে এটা ব্লগে সবার সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। অসাধারণ পিডিএফ রিডার+রাইটারটির নাম নাইট্রোপিডিএফ।

কয়েক বছর হলো আমি এডোবি পিডিএফ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি, এর অস্বাভাবিক ধীর গতির জন্য। পিডিএফ ফাইল খুলতে, প্রিন্ট করতে বা তৈরী করতে অত্যাধিক সময় লাগে এডোবি সফটওয়্যারের। আমার ব্যবহার করা এডোবি পিডিএফ-এর সর্বশেষ সংস্করণটি ছিলো ৫.০, এর পরে আর কোনোদিন ঐ সফটওয়্যার ব্যবহার করি নাই। পিডিএফ তৈরীর জন্য প্রথম দিকে ব্যবহার করতাম পিডিএফ ফোর্জ, ঘোস্ট স্ক্রিপ্টের লাইসেন্সিং নিয়ে কিছু ঝামেলার কারণে সেটা ব্যবহার বাদ দেই (সম্ভবত এখন ঐ ঝামেলাগুলি আর নাই), তখন পাই ডু-পিডিএফ। এটা সুন্দর ও হালকা সফটওয়্যার। কিন্তু পিডিএফ তৈরী ছাড়া বেশী কিছু করা যায়না।

আর এডোবি রিডার বাদ দেয়ার পর থেকেই ব্যবহার করে আসছি ফক্স আইটি পিডিএফ রিডার। ওটাও দুর্দান্ত একটা এপ্লিকেশন ছিলো।

কিছুদিন আগে নাম জানতে পারলাম নাইট্রো পিডিএফ রিডার-এর। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা একটা পিডিএফ রিডার। পরে ফিচারগুলি পড়ে দেখি এডোবি পিডিএফ-কে টেক্কা দিতেই তৈরী হয়েছে এই সফটওয়্যার। ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে এই সফটওয়্যারটি। যেটাতে আমরা পাবো:

  • পিডিএফ ফাইল পড়া
  • পিডিএফ ফাইলের যে-কোনো স্থানে এডিট করা
  • পিডিএফ ফাইল থেকে লেখা বা ছবি এক্সট্রাক্ট করা
  • ৩০০-এর বেশী ফাইল ফরমেট থেকে পিডিএফ তৈরী করা
  • পিডিএফ ফাইলের বিভিন্ন স্থানে মন্তব্য করা এবং মন্তব্যের জবাব লেখা
  • নিজের স্বাক্ষর ব্যবহার করা
  • পিডিএফ ফর্ম তৈরী এবং সম্পাদন করা
  • পাসওয়ার্ড দিয়ে পিডিএফ ফাইল বন্ধ করা সহ হাজারও ফিচার!

উইন্ডোসের ৩২/৬৪ বিটের জন্য আলাদা আলাদা ইনস্টলার ডাউনলোড করা যাবে এই পাতা থেকে। আশাকরি আমার মতন আপনাদেরও কাজে লাগবে নাইট্রো পিডিএফ রিডার। :)

টাকা দেয়া ছাড়াই ঝামেলামুক্ত ডাউনলোড

ইদানিং আমাদের মধ্যে একটা চল শুরু হয়েছে, আমরা টিভি সিরিয়াল, সিনেমা বা কম্পিউটার গেইমস্ ডাউনলোড করি। কেনো? বাজারের সিনেমার ডিভিডিগুলিতে কথা কাজের মিল থাকেনা, বেশীরভাগই ভালো কোয়ালিটির হয়না। আর গেইমস্ কিনে আনলে দেখা যায় ভেতরে শত শত ভাইরাস দিয়ে ভরা। তাই অগত্যা ডাউনলোড করতেই হয়। ডাউনলোড করার জন্য আছে দুই রকম প্রযুক্তি, একটি বিট্‌টরেন্ট, অন্যটি এইচটিটিপি। আমাদের দেশের ইন্টারনেট থেকে বিট্‌টরেন্টে তুলনামূলক কম গতি পাওয়াযায় বিধায় আমরা এইচটিটিপি ব্যবহার করি। এখন এইচটিটিপি আবার আরেক ঝামেলা। ডারা ফাইলগুলি আমাদের সাথে শেয়ার করে, তারা ফাইল হোস্ট করার জন্য বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করে; যেমন: ড়্যাপিডশেয়ার, মেগাআপলোড, নেটলোড, মেগাশেয়ার ইত্যাদী।

এখন এই সেবাগুলি ব্যবহার করার আবার কিছু সমস্যা আছে। আপনি যদি টাকা দিয়ে একাউন্ট না করেন, তাহলে এক আইপি থেকে একের বেশী ডাউলোড করতে গেলে বাঁধা দিবে। আবার আপনি যদি একটি আইপি শেয়ার করেন (যেমন: আপনার অফিসে বা গ্রামীণফোন ইন্টারনেটে বা পাড়ার ছোটো আইএসপিতে), তাহলেও বলবে আপনি বর্তমানে একটি ডাউনলোড করছেন এবং সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি আরেকটি ডাউনলোড করতে পারবেন না। অথচ আপনি ডাউনলোড করছেন না।

এরকম সমস্যা থেকে বাঁচতে আমরা ড়্যাপিডশেয়ার বা মেগাআপলোডের একাউন্ট কিনে ব্যবহার করি। সেটারও সমস্যা আছে। আমি ড়্যাপিডশেয়ার কিনলাম, কিন্তু যে ফাইলটা ডাউনলোড করতে চাচ্ছি সেটা নেটলোডে দেয়া আছে। এই সব ঝামেলার সমাধান নিয়ে মিপোনি নামের একটি সমাধান এসেছে। এটা ব্যবহারের জন্য আপনার কম্পিউটারে শুধু ডননেট ফ্রেমওয়ার্ক ২ ইনস্টল করা থাকতে হবে। লিঙ্কগুলি ধরিয়ে দিলে ক্যপচা ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে সবকিছু মিপোনি নিজে নিজে করে। আপনি শুধু বসে বসে তামাশা দেখবেন!

তাহলে আর টাকা দিয়ে ড়্যাপিডশেয়ার ব্যবহার করার দরকার কি, মিপোনি দিয়ে কাজ সারলেই হয়। :)

————————–

আমি বলছিনা আসুন আমরা পাইরেসি করি, বা পাইরেডেট জিনিস ব্যবহার করি, কিন্তু এ ছাড়া আমাদের উপায় আপাতত নেই। আমি হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে পছন্দ করি, কিন্তু কয়টা হলে হলিউডের সিনেমা দেখানো হয়! আমি একটা এক্সবক্সের গেইমস্ কিনে খেলতে চাই, কোথায় পাবো অরিজিনাল গেইমস্?

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে

আজ সকাল থেকে মনটা একটু খারাপ কারণটা সবার সাথে শেয়ার করা দরকার, তাই ব্লগটা লিখছি।

সকালে উঠে দেখি বৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ী যেহেতু কেনা হয়নি এখনো অফিস যেতে হয় আমার মটর সাইকেলে করে, আর বৃষ্টিতে একমাত্র ভরসা ট্যাক্সি ক্যাব। বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সা নিয়ে ক্যাব খুঁজছি। উত্তরা থেকে গুলশান দূরত্ব কম হওয়ায় ক্যাব/সিএনজি কেউ সহজে যেতে চায়না। এক ক্যাব চালক নিজে থেকেই রাজি হলেন নিয়ে যেতে এবং সুন্দর করেই চালিয়ে নিয়ে এলেন। আমি অফিস পর্যন্ত যদি গাড়ী নিয়ে আসি তাহলে অনেকটুকু রাস্তা গিয়ে উই-টার্ন নিয়ে আসতে হয়। তাই চিন্তা করলাম রাস্তার এপাড়েই গাড়ী ছেড়ে দিয়ে পার হয়ে অফিসে যাই। ক্যাবের বিল হয়েছে প্রায় ১৩০ টাকা। আমি ২০০ টাকা দিতেই চালক বললেন উনার কাছে ভাঙতি নাই। আমার কাছেও ভাঙতি নাই, আছে ৬ টাকা, তিনটা ২ টাকার নোট :(

চালক আমাকে বললেন, “ভাঙতি যা আছে দিয়ে চলে যান।” আমি বললাম, “একটু অপেক্ষা করেন, আমি ব্যাংক থেকে ভাঙিয়ে আনি,” উনি বললেন, “থাক দিতে হবেনা, ১০০ টাকা দিয়েই যান।” আর আমি নির্বোধের মতন নেমে অফিসে চলে আসলাম। লিফটে উঠতে উঠতে মনে হলো আরে, আমিতো উনার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে রাখলেও পারতাম। মোবাইলে টপ-আপ করে দিতাম টাকাটা, বা আমার বিজনেস কার্ড দিয়ে ২০০ টাকা দিয়ে আসতে পারতাম, উনি আমাকে ৭০ টাকা টপ-আপ করে দিতে পারতেন। খুব মনটা খারাপ হলো ভেবে। ভাঙতি ৬ টাকাও দেয়া হলোনা।

একটা সময় ছিলো যখন ভাড়া ছাড়া বাসে চড়তাম, টিকেট ছাড়া ট্রেনে চড়তাম, মজা করার জন্য। এখন কিন্তু ঐ সময় বা ঐ মানসিকতা নেই। আমি এখন অসম্ভব লজ্জিত ড্রাইভারকে ৩০ টাকা কম দেয়ার জন্য। ভীষণ খারাপ লাগছে নিজের কাছে, কেনো আমার মাথায় বুদ্ধি এলোনা তার মোবাইল নম্বরটা রেখে দেয়ার। যখন কোনো ট্যাক্সি/সিএনজি আসছিলোনা, তখন সে যেঁচে আমাকে নিয়ে এসেছে, অবশ্যই উপকার করেছে। আমার ৭০ টাকা বেশী দিলেও তো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো না :(

চোর পালানোর পরেই আসলে বুদ্ধি বাড়ে আমাদের!

অবসর নিচ্ছে স্করপিঅনস্!

আমার মতো অনেকেই আছে যারা সেই বাচ্চাকাল থেকে স্করপিঅনস্-এর ফ্যান। এবার আমাদের সবাইকে হতাশ করে দিয়ে চীরদানের জন্য অবসর নিতে যাচ্ছে জার্মানির এই ব্যান্ডদল। গতমাসে তাদের সর্বশেষ স্টুডিও এলবাম “স্টিঙ ইন দ্যা টেইল” মুক্তির সময় এরকমই ঘোষণা দিয়েছেন তারা। প্রথমদিকে এই এলবামটির নাম ঠিক করা হয়েছিলো “হিউম্যানিটি – আওয়ার ওয়ান” কিন্তু পরে সেটাকে আর গ্রহণ না করে “স্টিঙ ইন দ্যা টেইল” নামটি এলবামের টাইটেল দেয়া হয়।

“দ্যা গুড ডাই ইয়াঙ” গানটিকে ধরে নেয়া হচ্ছে তাদের বিদায়ি গান। আমি সবার সাথে শেয়ার করার জন্য গানটি এখানে দিয়ে দিলাম-

Audio clip: Adobe Flash Player (version 9 or above) is required to play this audio clip. Download the latest version here. You also need to have JavaScript enabled in your browser.

গানের কথাগুলি এরকম-

Read the rest of this entry »

এখন থেকে আর ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যাবেনা!

অনেকদিন আগে “বাংলাদেশের উন্নতি” নামের একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলাম। আজকে আবার একই বিষয় নিয়ে লিখছি। অনেকে হয়তো মনে করবে একই বিষয় নিয়ে দু’বার লেখার দরকার কি। আমি এজন্যই লিখছি যাতে প্রমাণ সহ বলতে পারি আমরা কুকুরের ল্যাজের মতো একটি জাতি, আর কুকুরের ল্যাজ যেমন ঘি দিয়ে মালিশ করলেও সোজা হয়না!সেরকম যত যাই হোক আমাদের চরিত্রও কখনো ঠিক হবে না।

গত কয়েকদিন থেকে যারা এয়ারপোর্ট রোডে যাতায়াত করছেন দুপুরের পরে, নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন যে সারা রাস্তার বাতিগুলি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। অনেকসময় বাতি ঠিক করার জন্য জ্বালানো হয়, কিন্তু আমার চোখে সেরকম কিছু পড়েনি।

কয়েকদিন ধরে বিশ্বরোডের এই দৃশ্য তো দেখছি, আজকে আমার এলাকায় আসতেই দেখি এলাকার লাইটগুলিও জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। ভাবটা এরকম মনে হলো যে রাজপথের বাতিগুলির সাথে এই বাতিগুলি পাল্লা দিচ্ছে।

ছবির আলো দেখেই বুঝতে পারছেন তখন কত বেলা! যতদূর চোখ গেলো, সব বাতি জ্বলছে রাস্তার। কিছুদিন আগে সরকারী একজন পেপারে বলেছিলেন, এখন থেকে আর আমরা বলতে পারবোনা যে ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যায়, কারণ এখন থেকে দুই ঘন্টা করে কারেন্ট বন্ধ থাকবে। উনাকে আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছে, দুই ঘন্টা কারেন্ট বন্ধ রেখে কি দিনের বেলা রাস্তার বাতি জ্বালিয়ে রাখা হবে?